গ্রাম পুলিশ


jaisomoy প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৯, ২০২২, ৬:৫০ অপরাহ্ন /
গ্রাম পুলিশ

গ্রাম পুলিশ 

সোহরাব হোসেন

চৌকিদার হরিপদ কোথায় যাও?
আমাকে বলছেন বুঝি?
তোমায় বলবো না তো! আর কাকে বলবো?
রাস্তায় তো আর কেউ তোমার মত চৌকিদারি
পোশাক পরে যাচ্ছে না! আচ্ছা চাচা—-
আপনি আমাকে চৌকিদার বললেন?
হ্যাঁ, চৌকিদার কে চৌকিদার বলবো না
তো কি বলবো?
ও আচ্ছা,
তাহলে আমরা কি শুধুই চৌকিদার?
আমাদের তো আরও একটা
নাম পরিচিতি আছে, তা কি আপনি জানেন
বা জানতে চেষ্টা করছেন কখনো?
চাচা আপনি তো শিক্ষিত মানুষ,
গ্রামের মাতবর, দেখুন তো আমার পোশাকের
দুই কাঁধে কি লেখা আছে?
ক্যা বারে কাঁধে গ্রাম পুলিশ লেখা থাকলেই
কি তোমরা পুলিশ হয়ে গেলে?
পুলিশেরা তো সরকারি চাকুরী করে,
মাস গেলেই সরকারি মাইনে পায়!
আবার কত কাজ আর কত ডিউটি?
তা তোমরা কি কাজ করো?
তোমার কোথায় ডিউটি থাকে ?
মাস গেলে কি কোন মাইনে পাও?
তোমাকে তো সারাদিন ঐ প্রেসক্লাবের
সামনে জুতা সেলাই করতেই দেখি!
তুমি আবার কি সেবা দাও জনসাধারণের?
চাচা, সরকার আমাদের মাইনে দেয়না ঠিকই!
তবে আমরা গ্রাম পুলিশ আছি বলেই,
আপনারা শান্তিতে ঘুমাতে পারেন,
খেতে পারেন, চলতে পারেন,
ছেলে মেয়ে কে সুষ্ঠু পরিবেশে
নিরাপদে স্কুলে পাঠাতে পারেন,
আর গোয়ালের গরু ও মাঠ ভরা
কতো রকম ফসল ফলাতে পারেন।
আচ্ছা তা না হয় বুঝলাম!
তো কিভাবে তোমরা আমাদের সেবা দাও?
বলো দেখি শুনি ? তাহলে শুনুন
আমরা তো সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত
শ্রেনি পেশার মানুষ ,আমাদেরও পরিবার আছে, আমাদের সন্তানেরাও স্কুল যায়, এবং কলেজে যায়।
যদিও আমাদের কোন জমিজমা নেই,
তাই আমাদের দিনভর জুতা সেলাই করতে হয়,
মাথার চুল কাটতে হয়,
আবার আপনাদের মত মাতবর কন্যাকে
পালকি করে শ্বশুর বাড়ি নিতে হয়,
মাঝে মধ্যেই হাটে বাজারে টিন বাড়িয়ে
হারানো সংবাদ গুলোও প্রচার করতে হয়।
আরো কত কি যে আমাদের করতে হয়
তা বলে শেষ করাই কঠিন ?
তারপর দিনের কাজ শেষে
যখন আমরা বাড়ি ফিরি
তখন আমরা রাতের খাবার খেয়ে
হাতে বড় টর্চ লাইট ও লাটি নিয়ে
সারারাত গ্রামের মধ্যে ঝোপেঝাড়ে
এপাড়া ওপাড়া টহল করি।
তা কি কখনো দেখেছেন?
আর দেখবেনি বা কি করে?
কারণ তখন তো আপনারা
গভীর ঘুমে মগ্ন থাকেন!
গভীর রাতেই আমরা প্রত্যেহ ডিউটি করি,
যাতে আপনারা শান্তিতে ও
নিরাপদে ঘুমাতে পারেন,
তাছাড়াও গ্রামের মধ্যে থেকে এবং
বাহির এলাকা হতেও চোর,সন্ত্রাশ,
ধরতে থানার পুলিশ কে গোপনে
গোপনে সাধ্যেমত চেষ্টা করি।
থানার পুলিশ রাতে গ্রাম বা ইউনিয়ন
এলাকায় টহল দেওয়ার সময়
আমাদের সাথে দেখা হয় এবং
বিভিন্ন তথ্যের আদান প্রদান হয়।
এভাবেই আমরা আমাদের গ্রাম পুলিশের সার্বিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে থাকি।
এরপরেও কি বলবেন আমরা পুলিশ নই?
আমরা শুধুই চৌকিদার!
আমাদের আর চৌকিদার বলে
সরাসরি লজ্জা দিবেন না চাচা।
দয়া করে আমাদের পরিচিতি
জানার চেষ্টা করুন।
আপনাদের প্রয়োজনেই তো আমরা,
আমরা ———— গ্রাম পুলিশ।
সোহরাব হোসেন (শিক্ষক)
সারিয়াকান্দি, বগুড়া।