বৃক্ষরোপনঃ


jaisomoy প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২, ২০২২, ৩:৩৯ অপরাহ্ন /
বৃক্ষরোপনঃ

বৃক্ষরোপন

মির্জা গোলাম সারোয়ার পিপিএম

‘ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ইসলামের দৃষ্টিকোন থেকে চাকরিজীবনে আমি বিভিন্ন থানা ও প্রতিষ্ঠান,স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসা, সরকারি রাস্তা, গোরস্থান ইত্যাদি জায়গায় নিজ উদ্যোগে ২০ হাজার বনজ,ফলজ,ঔষধি এবং শোভাবর্ধনকারী গাছ লাগিয়েছি ‘
‘ দিনাজপুর জেলা স্কুলে পড়ার সময় ঘটে যাওয়া দু’টি ঘটনা আমাকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত এবং উদ্ভুদ্ধ করে ‘
‘ গাছ মহান আল্লাহতায়ালার অনেক বড় নিয়ামত। গাছপালা দিয়ে আল্লাহ পৃথিবীকে সুশোভিত করেছেন ‘
‘ বৃক্ষ রোপনের পর যতদিন পর্যন্ত মানুষ বা জীবজন্তু ওই বৃক্ষ থেকে প্রাপ্ত ফল ভোগ করবেন এবং ছায়া পাবেন, ততদিন পর্যন্ত আমলকারীর আমল নামায় সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব লেখা হতে থাকবে ‘
‘ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর মোট উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে ২৫ শতাংশই গাছ বা বৃক্ষ ‘
‘ পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। অথচ বাংলাদেশের মোট বনভূমির আয়তন হচ্ছে ১৭.৪ ভাগ ‘
‘ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রতিটি রাষ্ট্রের মোট ভূখন্ডের ২৫ শতাংশ বনভূমি রাখতে হয় ‘
‘ ওই সংজ্ঞা অনুযায়ী ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে এফএও থেকে প্রকাশিত বিশ্ব পরিসংখ্যান পকেট বুক অনুযায়ী ২০১৭ সালে বাংলাদেশের মোট বনভূমির পরিমান ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ ‘
‘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বনভূমির পরিমান ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ‘
‘ আমাদের এখন মোট বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকার পরিমান ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। ঘাটতি আছে এখনও আড়াই শতাংশ ‘
‘ গাছ ভারসাম্য রক্ষায় সক্রিয় ভুমিকা পালন এবং সুস্থ জীবনের জন্য নির্মল বায়ু ও অক্সিজেন দান করে ‘
‘ বৃক্ষরোপনের বিষয়ে মাছরাঙা টেলিভিশন ২০১৬ সালের ১৬ মে তারিখে ‘ রাঙা সকাল ‘ নামে একটি অনুষ্ঠানে আরজি কিবরিয়ার উপস্হাপনায় সকাল ৭টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত আমার সাক্ষাৎকার সরাসরি প্রচার এবং সম্মানী বাবদ ৫০০০ টাকা প্রদান করে ‘
‘ মনে মনে ভাবি, আমি যখন থাকবো না। তখন সবাই আমাকে ভুলে গেলেও গাছগুলি কালের সাক্ষি হয়ে আমার স্মৃতি বহন করে চলবে ‘
দিনাজপুর জেলা স্কুলে পড়ার সময় কয়েকটি ঘটনা আমার মনে দাগ কেটে গাছ লাগানোর বিষয়ে আমাকে বিশেষভাবে অনুপ্রানিত, উৎসাহিত এবং উদ্ভুদ্ধ করে। আমি তখন দিনাজপুর জেলা স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। থাকতাম গ্রামের বাড়িতে। আমাদের বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব ছিল ৪ কিমি। কয়েকজন সহপাঠী সহ প্রতিদিন হেঁটেই স্কুলে যেতাম। একদিন স্কুল শেষে বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে গ্রামের কাঁচা রাস্তায় দেখি প্রখর রোদে একজন পথচারী ভীষন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রাস্তার দু’পাশে ওই জায়গায় তখন কোনো গাছ ছিলনা। আমরা অসুস্থ লোকটিকে ধরাধরি করে দূরে একটা গাছতলায় নিয়ে যাই। গাছের ছায়ায় কিছুক্ষন বসে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। বিষয়টি আমার মনে বেশ দাগ কাটে। আমি ভাবি, রাস্তার পাশে যদি গাছ লাগানো যায় তবে তার ছায়ায় পথচারীরা রোদের তাপ থেকে রক্ষা পাবেন। আমরাও স্কুলে যাতায়াতের সময় রোদের তাপ থেকে রক্ষা পাবো।
ওইদিনের ঘটনাটি গাছ লাগাতে আমাকে উৎসাহিত করে। আমি টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে ১০টি আম গাছ কিনে রাস্তার দু’পাশে লাগিয়েছিলাম। আমার বাড়ির নিকটবর্তী হওয়ায় গাছগুলি বাঁশের কঞ্চি ও চাটাই দিয়ে ঘিরে প্রতিদিন সকাল-বিকাল পানি দিতাম। গাছগুলি কয়েকমাসে বড়ও হয়েছিল। কিন্তু রাস্তা পাকা করার নিমিত্তে সম্প্রসারনের সময় আমার লাগানো গাছগুলি কাটা পড়ে। এতে আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। কারন কয়েকমাসে গাছগুলির প্রতি আমার মায়া জন্মে গিয়েছিল। গাছগুলি তরতর করে বেড়েও উঠছিল। রক্ষনাবেক্ষনের সময় গাছগুলি নেড়েচেড়ে দেখতাম। স্কুলে যাতায়াতের পথে গাছগুলির কথা মনে পড়লে আমার মন খারাপ হয়ে যেত। কিছুতেই গাছগুলির কথা ভুলতে পারতাম না। এ অবস্থা অনেকদিন বজায় থাকে। ওই দুঃখে সবসময় মনে মনে ইচ্ছে পোষন করতাম, আমাকে সারাজীবন অনেক গাছ লাগাতে হবে। এ প্রসঙ্গে জর্জ ক্রেব এর একটি কথা সবসময় মনে পড়তো। তিনি বলেছিলেন, ‘প্রজ্ঞা বিকশিত হবার একমাত্র পথ হচ্ছে ইচ্ছে’। এপিকটেটাস বলেছেন, ‘মানুষের ইচ্ছের ভেতরেই অবস্থান করে তার ভালো-মন্দ’।
অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমাদের গ্রামে একটি আম গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দু’ভাইয়ের মধ্যে গন্ডগোলের কারণে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই খুন হন। বিষয়টি আমার মনকে খুবই বেদনাহত করে। মনে মনে ভাবি, একটি গাছের জন্য একজন মানুষকে পৃথিবী থেকে নির্মমভাবে বিদায় নিতে হয়েছে। এ ঘটনাও আমাকে গাছ লাগাতে অনুপ্রেরনা দেয়। কয়েক মাস পর আমি বিবেকের তাড়নায় ওই বাড়ির লোকজনের অনুমতি নিয়ে কর্তনকৃত আম গাছের স্হানে একটি গাছ লাগিয়ে দিই। এক্ষেত্রে আমার আবেগ কাজ করেছিল। আবেগ সম্পর্কে ই.এম.ফরস্টার বলেছেন, ‘ আবেগ হলো অশেষ, যতো এর প্রকাশ ঘটবে ততই আরো প্রকাশিত হবে ‘। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘ আবেগ ব্যতীত কাজ ও কাজ ব্যতীত সমাজ চলতে পারে না ‘।
আমার বড় মামা সরকারি চাকরি করতেন। তাঁকে দেখেছি প্রতি মাসে বেতন পাওয়ার পর আম, লিচু ও অন্যান্য ফলের গাছ কিনে এনে বাড়ির আশেপাশে, খালি এবং পতিত জায়গায় লাগাতেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় লোকজন ভারতে পালিয়ে গেলে দখলদার পাকিস্তানি সেনা এবং বিহারি সম্প্রদায়ের লোকেরা গ্রামের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে জিনিসপত্র লুট করে ছোট -বড় সব গাছ কেটে নিয়ে যায়। আর যেগুলি নিতে পারে নাই সেগুলি কেটেকুটে ধ্বংস করে দেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমাদের গ্রামকে চেনাই যাচ্ছিল না। দেখে হয় মনে হচ্ছিল যেন মরুভূমির মধ্যে গাছ বিহীন একটি বিধ্বস্ত গ্রাম যেখানে সবুজের কোনো চিহ্ন ছিল না। অথচ স্বাধীনতার আগে আমাদের একটি বড় কাঠাল বাগান ছিল। কাঠাল পাকার গন্ধ পেয়ে নানি আমাকে কাঠাল বাগানে যেয়ে গাছ পাকা কাঠাল পেড়ে আনার জন্য বলায় আমি ৫৬টি কাঠাল পেড়ে এনেছিলাম। সেই কাঠাল বাগানটির কোনো চিহ্নই ছিলনা।
স্বাধীনতার পর বাগান থেকে গাছপাকা কাঠাল পাড়ার কথা মনে পড়লে আমার চোখ পানিতে ঝাপসা হয়ে ওঠতো। হৃদয়ে বয়ে যেত অনেক বেদনার ঝড়। আমার বড় মামা আবার বাগানটিকে গড়ার জন্য উদ্যোগ নেন। যখনই সময় পেতেন গাছ কিনে এনে লাগাতে শুরু করেন। মামার গাছ লাগানোর কর্মকাণ্ডে আমি ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হয়ে পড়ি। কয়েক বছরের মধ্যে রোপনকৃত গাছগুলি ডালপালা গজিয়ে বড় হতে থাকে যা দেখে আমার মনে সস্তির সুবাতাস বয়ে যেত। আমার বড় মামা এখন বেঁচে নেই। কিন্তু তাঁর রোপনকৃত গাছগুলি বাড়িটিকে আগের মতো সবুজ অবস্হায় এনেছে যা দেখে চোখ জুড়িয়ে তাঁকে বারবার স্মরন করিয়ে দেয়। তিনি গাছের মাধ্যমে চিরদিন আমাদের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। মামার গাছ লাগানো আমাকে বেশ উৎসাহিত করে। আমি গাছ লাগানোর জন্য উদ্যোগী হই। এব্যাপারে আমি সফল হতে চেষ্টা করি। কারণ হেনরি প্যাটারসন বলেছেন, ‘ সাফল্যের পিছনে থাকে উদ্যোগ আর নিষ্ঠা ‘। আমি এব্যাপারে খুব আশাবাদী ছিলাম। মনে মনে ভাবতাম, নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে সফলতা আসবেই। এবং এসেছেও।
ছোটবেলায় কোরআন শরীফ শিক্ষার জন্য একজন আরবী শিক্ষকের কাছে পড়তাম। তিনি পড়ানোর সময় প্রায়ই বলতেন, ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকে গাছ লাগানো সদকায়ে জারিয়া। মৃত্যুবরন করার পর সব সওয়াব বন্ধ হলেও গাছ লাগানোর সওয়াব পাওয়া জারী থাকবে। শুক্রবারে মসজিদে নামাজের আগে ইমাম সাহেব মাঝে মাঝে সদকায়ে জারিয়া সম্পর্কে বয়ান দিতেন। যার মধ্যে গাছ লাগানোর কথা বলতেন। স্কুলে বিজ্ঞান স্যার ক্লাসে বলতেন, গাছের পাতা যে অক্সিজেন নি:সরণ করে আমরা তা গ্রহণ করি এবং আমাদের নির্গত কার্বনডাই অক্সাইড গাছ গ্রহণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। শিক্ষকদের এধরনের কথাবার্তা ছোট থেকেই গাছ লাগানোর ব্যাপারে আমাকে ভীষনভাবে উদ্বুদ্ধ, উৎসাহিত এবং অনুপ্রানিত করে যার ফলে আমি সুযোগ পেলেই গাছ লাগাতে থাকি। টিফিনের পয়সা, পুরান খাতাবই বিক্রি, ঈদের সময় পাওয়া সালামি ইত্যাদির মাধ্যমে যৎসামান্য যে টাকা জোগাড় হতো তা দিয়ে গাছের চারা কিনে লাগাতাম। এভাবে স্কুল এবং কলেজ জীবনে আমার গাছ লাগানোর কাজ চলতে থাকে।
আমার বয়সি ছেলেমেয়েরা যখন আইসক্রিম খাওয়া, সিনেমা দেখা ইত্যাদির পেছনে টাকা খরচ করতো, আমি তখন গাছের চারা কিনে লাগাতাম। গাছ লাগানো আমার নেশায় পরিনত হয়েছিল। আমার এসব কান্ড দেখে কেউ উৎসাহ দিত আবার কেউ সমালোচনা করে নিরুৎসাহিত করতো। আমিও দমে যাওয়ার পাত্র নই। স্কুল ও কলেজ জীবনে সব বাঁধা সরিয়ে এভাবেই গাছের চারা লাগিয়ে যেতাম। কলেজের গন্ডি পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সমায় আমি দু’টি চাকরি করেছি। যার ফলে গাছের চারা কেনার জন্য আমাকে আর বেগ পেতে বা কারও কাছে হাত বাড়াতে হয়নি। ইচ্ছেমতো গাছ কিনে লাগিয়েছি। এ অবস্হা চাকরি পাওয়ার আগ পযর্ন্ত বাজায় রাখি। চাকরি পাওয়ার পর বৃক্ষরোপণে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। পুরোদমে এগিয়ে যেতে থাকি। কারন গাছ হলো আমাদের জীবন রক্ষাকারী এক পরম বন্ধু। আমাদের জীবনের জন্য গাছ নির্মল বায়ু ও অক্সিজেন দান করে।
চাকরি শুধু জীবন আর জীবিকার জন্য নয়, ইচ্ছে থাকলে কর্ম ও পেশার মধ্যে শত ব্যস্ততার মাঝেও পরিবেশ দেশ ও জাতির জন্য অবদান রাখা যায়। যা আমি কর্মক্ষেত্রে প্রমান করতে পেরেছি। চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য ব্যাপকভাবে বৃক্ষ রোপনের পরিকল্পনা করি। বিশ্ব যখন পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে, এমনি এক সময়ে আমি বৃক্ষ রোপনে জোর দিই। নিজ উদ্যোগে চাকরির স্থানগুলোতে ২০ হাজার ফলজ, বনজ,, ঔষধি এবং শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ রোপন করে অসামান্য উদাহরণ ও দৃষ্টান্ত স্হাপন করি।
চাকরি করাকালীন আমি নাটোর জেলার সিংড়া থানা চত্বর, সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানা চত্বর, কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর থানা চত্বর, পুলিশ লাইন্স, পুলিশ অফিস, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বাসভবন, উলিপুর থানা চত্বর, সরকারি রাস্তার দু’পাশে, গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানা চত্বর ও পুলিশ লাইন্স, নওগাঁ জেলার সদর, সাপাহার ও মহাদেবপুর থানা চত্বর, পুলিশ লাইন্স ও পুলিশ সুপারের বাসভবন, রাজশাহী জেলার বাগমারা থানা চত্বর, থানার সামনে সরকারি রাস্তায়, বাগমারার মোহনগন্জ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার রাস্তার দু’পাশে দু’কিলোমিটার, মোহনগঞ্জ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও বাগমারা পাইলট উচ্চবিদ্যালয় চত্বর, রাজশাহী পুলিশ লাইন্স, আরআরএফ পুলিশ লাইন্স, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ডিআইজি’র সরকারি বাসভবন, বাগমারা RAB ক্যাম্পের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্যাম্পের ভেতর, দিনাজপুর জেলার খোদমাধবপুর মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের গোরস্থান ও মাদ্রাসা প্রাঙ্গনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফলজ,বনজ, ঔষধি এবং শোভাবর্ধনকারী ২০(বিশ) হাজার বৃক্ষ রোপন করেছি। এগুলো এখন রাষ্ট্রীয় সম্পদ বৃদ্ধি করাসহ ফল ও ছায়া দেবার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে। বৃক্ষনিধন প্রতিযোগিতার এই সময় হাজার হাজার বৃক্ষ রোপণ ও পরিচর্যা করে আমি পুলিশ বিভাগ ও RAB কে যেমন গৌরবান্বিত করেছি, তেমনি আমি আমার সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের কাছে আগামিতে বৃক্ষ রোপণের ক্ষেত্রে উৎসাহ ও উদ্দীপনাকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছি। উল্লেখ্য যে,২০১৪ সালে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনির সদস্য হিসেবে সুদানের দারফুর মিশনে চাকরি করাকালীন আমি নিয়ালা সুপার ক্যাম্পে নিম ও আম গাছ লাগিয়েছি।
বৃক্ষ রোপণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ১৯৯৬ সালের ৩০ অক্টোবর তারিখে কুড়িগ্রাম ব্যক্তি মালিকানাধীন বনায়ন সমিতি, ২০০৩ সালের ১৭ জুলাই তারিখে নওগাঁ জেলা নার্সারি উন্নয়ন সমিতি, ২০০৭ সালের ২৭ অক্টোবর তারিখে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা সামাজিক ও বনায়ন বাগান কেন্দ্র, ২০০৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১১নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন -অর-রশিদ আমাকে সনদ ও প্রত্যায়নপত্র প্রদান করেন।
বৃক্ষ রোপণে আমার এই উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ পূর্বক রাজশাহীর তৎকালীন পুলিশ সুপার জনাব মো: দিদার আহমেদ(বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত) পুলিশ অফিস পত্র নং- ২৬৫/ সি তারিখ: ২১.৮.২০০৭ মোতাবেক একটি সম্মাননাপত্র এবং রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জনাব মু: আনোয়ার হোসেন খান একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ করে আমি যে বিরল দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছি তার স্বীকৃতিস্বরুপ আমাকে একটি প্রশংসাপত্র প্রদান করেন। এ ছাড়াও বাগমারা উপজেলা পরিষদ মাসিক আইনশৃংখলা সভায় বৃক্ষ রোপনে অসামান্য অবদানের জন্য রেজুলেশনের মাধ্যমে আমাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বৃক্ষ রোপণের বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্র পত্রিকা আমাকে বৃক্ষপ্রেমী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িতপূর্বক একাধিক প্রতিবেদন ফলাও করে প্রচার করায় ব্যাপক আলোড়ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন অফিসার ও ফোর্স এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ আমার কর্মকান্ডকে অনুসরন করে বৃক্ষ রোপণ করতে উৎসাহিত এবং অনুপ্রানিত হন। থানায় কেউ অভিযোগ নিয়ে বা অন্য কোনো কারনে আসার পর তাকে আইনগত সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি গাছ লাগানোর জন্য পরামর্শ দিতাম। এছাড়াও থানায় অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক প্যারেডে চৌকিদারদেরকে, অপরাধ দমন ও কমিউনিটি পুলিশিং সভায় উপস্হিত সর্বস্তরের জনসাধারণকে জীবনে অন্তত পক্ষে একটি গাছ লাগানোর জন অনুরোধ করতাম। বৃক্ষ রোপণের বিষয়ে মাছরাঙা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালের ১৬ মে তারিখ সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত একঘন্টা যাবৎ আমার একটি সাক্ষাৎকার সরাসরি সম্প্রচা এবং অনুষ্ঠান শেষে আমাকে নগদ ৫০০০ টাকা সন্মানি বাবদ প্রদান করে।
আমের মৌসুমে বিভিন্ন থানার ওসিরা মাঝে মাঝে তাদের থানায় আমার লাগানো গাছের আম পাঠালে খেয়ে নয় বরং তা দেখে আমার মনে কী যে আনন্দ ও শান্তি বয়ে যায় তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। এ আনন্দ আর শান্তির নেই কোনো সীমানা। নিজের হাতে লাগানো গাছের ফল খেতে এক অন্য রকম তৃপ্তি
ও প্রশান্তি অনুভূত হয় যা বলে বোঝানো যাবেনা।
RAB-5 এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক হিসেবে চাকরি করাকালীন আমি একদিন অভিযান পরিচালনা শেষে মামলা সংক্রান্তে জরুরি তথ্য সংগ্রহের জন্য নাটোর জেলার সিংড়া থানায় যাওয়ার পর অফিসার ও ফোর্সরা থানা চত্বরে আমার হাতে লাগানো নারিকেল গাছ থেকে ডাব পেড়ে খাওয়ান। ওই সময়গাছের দিকে তাকিয়ে আনমনে ভেবেছিলাম, আমি যখন থাকবো না তখন সবাই আমাকে ভুলে গেলেও গাছগুলি বেঁচে থেকে কালের সাক্ষি হয়ে আমার স্মৃতি বহন করে চলবে। যদি আমার প্রজন্মের কেউ দেখে তাহলে গাছের স্মৃতির মাঝে আমার অস্তিত্ব খুঁজে পাবে। এসব চিন্তায় চোখের পাতা ঝাপসা হয়ে আসে। অজান্তেই আমার চোখ থেকে কয়েক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ে। এসময় গাছের ডালে বসে একটি শালিক পাখি একদৃষ্টে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। হয়তো সে আমার মনের অনুভূতি কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছিল।
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা ও দূষণ মুক্ত পরিবেশ তৈরিতে গাছের ভুমিকা অপরিসীম। গাছ আমাদেরকে যেমন অক্সিজেন সরবরাহ করে ঠিক তেমনি প্রাকৃতিক দুর্যোগেের কবল থেকে পরিবেশকে রক্ষা করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর মোট উদ্ভিদ প্রজাতির ২৫ শতাংশই গাছ। গাছ ছাড়া প্রাকৃতিক পরিবেশের কথা কল্পনা করাও অবান্তর। ইসলাম ধর্ম সঙ্গত কারণেই পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষ রোপণে জন সচেতনতা তৈরিতে উৎসাহ ও নির্দেশনা দিয়েছে। গাছ ও বনভূমি ছাড়া মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জীবনধারণ অসম্ভব। গাছ ও বনভূমি না থাকলে, পরিবেশ হবে উষ্ণ এবং পৃথিবী হবে ধূলিকাময়।
পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। অথচ বাংলাদেশের মোট বনভূমির আয়তন হচ্ছে ১৭.৪ ভাগ। এদেশের জনসংখ্যার তুলনায় বনভূমি খুবই কম। দিন দিন কমে যাচ্ছে বনভূমির আয়োজন। আগে স্কুল বা গ্রামের পাশে থাকা বনভূমিতে বনভোজনের আয়োজন করা হতো। এখন বনভূমি কমে যাওয়ায় আর বনভোজনের আয়োজন করা হয়না। বনভোজন শব্দটি ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছে। নগরায়ন ও শহরায়ন এবং আসবাবপত্র ও জ্বালানি কাঠের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে বনভূমি। বিলুপ্ত হচ্ছে জীবজন্তু ও বন্যপ্রাণী। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে দেশ ও দেশের মানুষ। শুধু বাংলাদেশ নয়,পৃথিবী থেকেও বনভূমি দ্রুত ধ্বংস
হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইসলাম বৃক্ষ রোপণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এমন কী বৃক্ষ রোপণকে সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে। বৃক্ষ রোপণের পর যতদিন পর্যন্ত মানুষ ও জীবজন্তু ওই বৃক্ষ থেকে প্রাপ্ত ফল ভোগ করবে,ছায়া পাবে ততদিন পর্যন্ত আমলকারীর আমলনামায় সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব লেখা হতে থাকবে। গাছ মহান আল্লাহতায়ালার বড় নেয়ামত। বিভিন্ন ধরনের গাছপালা দিয়ে আল্লাহপাক পৃথিবীকে সুশোভিত করেছেন।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রতিটি রাষ্ট্রের মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশ বনভূমি রাখতে হবে। বনভূমির সংজ্ঞা হিসেবে জাতিসংঘ থেকে বলা হয়েছে, প্রতি হেক্টর জমিতে ১০ শতাংশ এলাকায় বৃক্ষ থাকতে হবে এবং সেগুলোর উচ্চতা ৫ মিটার হতে হবে। তবেই ওই এলাকাকে বনভূমি বলা যাবে। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী ২০১৯ সালে এফএও থেকে প্রকাশিত বিশ্ব পরিসংখ্যান পকেট বুক অনুযায়ী ২০১৭ সালে বাংলাদেশের মোট বনভূমির পরিমান ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ।
বৃক্ষের বিশুদ্ধ ও হিমেল হাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বিশুদ্ধ হাওয়ায় নি:শ্বাস নিয়ে আমরা প্রশান্তি লাভ করি। বৃক্ষ যত কমতে থাকবে, পৃথিবীর তাপমাত্রা তত বাড়তে থাকবে। খরা, অনাবৃষ্টি দেখা দেবে। মানুষসহ পশুপাখি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। তাই বিনা প্রয়োজনে কখনও গাছ কাটা উচিৎ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) অযথা কোনো গাছের পাতা ছিড়তেও নিষেধ করেছেন। অন্য একটি হাদিসে আছে, ‘ যে ব্যক্তি প্রয়োজন ছাড়া গাছ কাটবে (যে গাছ মানুষের উপকার করতো), আল্লাহ তার মাথা আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করবেন ‘ বায়হাকি হাদিস – ৬/১৪০। আনাস( রা:) হতে বর্নিত হাদিসে বৃক্ষ রোপণ ও পরিচর্যা করতে নির্দেশ দিয়ে মহানবী (সা:) বলেছেন, ‘ যদি নিশ্চিতভাবে জানো যে কেয়ামত এসে গেছে, তখন হাতে যদি একটি গাছের চারা থাকে, যা রোপণ করা যায়,তবে সেই চারাটি রোপন করবে ‘ মুসনাদ হাদিস – ৩/১৮৩। বৃক্ষরাজি বাতাসে জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে আবহাওয়াকে শীতল, অধিক বৃষ্টিপাতে সাহায্য, জমির উর্বরতা শক্তি বহুল পরিমানে বৃদ্ধি এবং অধিক ফলনে সহায়তা করে। এছাড়া প্রাকৃতিক দূর্যোগগুলো মোকাবেলা করতে এবং গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়ারোধ করতেও বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। গাছ আমাদের জীবনের উপাদান অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং মানবদেহ থেকে নি:সরিত কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষন করে আমাদের পরিবেশকে দূষণমুক্ত ও বাসযোগ্য রাখে। মহানবী( সা.) কৃষিকাজ ও বৃক্ষ রোপনে উৎসাহিত করেছেন যাতে উদ্ভিদ বৃদ্ধি পায় এবং সুস্থ পরিবেশ অক্ষুন্ন থাকে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বনভূমির পরিমান ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমাদের দেশে এখন মোট বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকার পরিমান ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। আমাদের ঘাটতি আছে আড়াই শতাংশ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বন ও পরিবেশ মন্ন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে সারাদেশে এক কোটি গাছের চারা রোপন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামি ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সারা দেশে এক কোটি গাছের চারা রোপন শেষ করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। এক কোটি গাছের চারার মধ্যে পঞ্চাশ শতাংশ ফলজ এবং বাকি পঞ্চাশ শতাংশ বনজ,ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী। কোনো বিদেশি প্রজাতির গাছের চারা লাগানো হবে না। চারা লাগানোই শেষ কথা নয়। একটি চারাও যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য যে কতৃপক্ষ চারা লাগাবে সেই কতৃপক্ষকেই রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এবার বনবিভাগের পক্ষ থেকে সাত কোটি গাছ লাগানো হবে বলে জানা গেছে। সাধুবাদ জানাই সরকার ও বনবিভাগকে।
বিভিন্ন থানায় ওসি’র দায়িত্ব পালনকালে আমি মাঝে মাঝে স্কুল ও কলেজে ক্লাস নিতাম। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পড়ানোর পাশাপাশি আইন সম্পর্কে বলতাম এবং গাছ লাগানোর বিষয়ে উৎসাহিত ও অনুপ্রানিত করতাম। আমার অনুপ্রেরনা পেয়ে অনেকেই বাড়িতে গাছের চারা রোপণ করে পরবর্তীতে আমাকে জানাতো। গাছ লাগানোর কথা শুনে আমি খুব খুশি হতাম। দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে প্রতিটি ক্লাশে তাদেরকে গাছ লাগানোর জন্য উদ্ভুদ্ধ করতাম। প্রতি সপ্তাহের শুক্রবারে আমি ১০ জন ছাত্র- ছাত্রীকে থানা দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানাতাম। উদ্দেশ্য পুলিশভীতি দূরীকরণ এবং গাছ লাগাতে উৎসাহিত করা। থানায় আমার দ্বারা রোপণকৃত গাছ দেখিয়ে তাদেরকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতাম। এজন্য আমাকে অনেকেই বৃক্ষপ্রেমিক,গাছ পাগল মানুষ বলতেন। শুনে আমি মোটেও মন খারাপ না করে বরং মনে মনে গর্ব অনুভব করতাম। এলাকার সর্বস্তরের লোকজন আমার গাছ লাগানোর বিষয়ে জানতো এবং থানায় এসে বাস্তবে গাছগুলি দেখে অনুপ্রানিত হতো।
একবার থানার অফিসার ও ফোর্সরা মারামারি মামলার কয়েকজন আসামিকে ধরে থানায় আনার পর একজন আসামি আমার সাথে দেখা করে বলে, স্যার আমাকে যেন মারধর করা না হয়। আমি ছাড়া পেলেই গাছ লাগিয়ে আপনাকে জানাবো। আমি তাকে হেসে বলেছিলাম,তোমাকে কেউ মারবে না। কয়েক মাস পর জেল খেটে সে বের হয়ে তার বাড়িতে ২০টি হাইব্রিড আম গাছ লাগায়। কয়েকদিন পর থানায় এসে আমাকে সেই সংবাদ জানালে আমার খুব ভালো লাগে। দু’বছর পর শহরে একদিন তার সাথে দেখা হলে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানায়, এখন তার বাগানে ৫০টি আম গাছ রয়েছে। আম খাওয়ার পাশাপাশি সে এখন বিক্রি করে অর্থও উপার্জন করছে। আর এর জন্য সমস্ত কৃতিত্ব সে আমাকে দেয়। সেদিন আমার কথা শুনে তার জীবনটাও বদলে গেছে। কথা প্রসঙ্গে জানায় ভবিষ্যতে সে তার বাগানকে আরও বড় করবে এবং লিচুসহ অন্যান্য ফলের গাছ লাগাবে। এখন সে সবসময় বাগানের পিছনে সময় ব্যয় করে। তার কথা শুনে আমার হৃদয়ে বয়ে যায় স্বস্তির সুবাতাস।
আমি রাষ্ট্রীয় সম্পদ বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের আলোকে এসব বৃক্ষ রোপণ করেছি। চাকরির পাশাপাশি আমি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা, গোরস্তান ইত্যাদি জায়গাসমুহে বৃক্ষ রোপন করেছি এবং এখনও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। ভবিষ্যতে এমনকি আজীবন এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো। মাঝে মাঝে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যেয়ে গাছগুলি নেড়েচেড়ে দেখে আসি। অজান্তেই গাছগুলোর সাথে মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে গেছি। বাতাসে গাছের ডালগুলি মাঝে মাঝে নড়ে ওঠে আমাকে তাদের অস্তিত্বের কথা জানান দেয়। আমিও হারিয়ে যাই তাদের সুশীতল বাতাস আর ছায়ায়। গাছের নিচে ঝরে পড়ে থাকা শুকনো পাতার মাঝে দেখতে পাই আমার হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো। তখন পথহারা পাখিরা আকাশে খুঁজে তাদের সুখ নীরবতা ভেঙে। স্বপ্নের সাগর পাড়ি দিয়ে আমার শান্ত মন অশান্ত হয়ে যায়।
লেখক ও কলামিস্ট :
( চাকরি করাকালীন রাজশাহী জেলার বাগমারা থানা চত্বরে রোপনকৃত আমগাছ পরিচর্যার সময় আমি)