চৌধুরী সাহেবের নাতি


jaisomoy প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২, ৭:২৯ অপরাহ্ন /
চৌধুরী সাহেবের নাতি

চৌধুরী সাহেবের নাতি

সোহরাব হোসেন

তখন ছিল চৈত্র মাস। চারিদিকে খা খা রৌদ্রের ঝলকানি, দূরে চোখ মেলে তাকানো খুব কষ্টকর । রাস্তায় দুএকজন পথিক ছাতা মাথায় হাটছিলেন। বেল’টা মাথার উপর দিয়ে গড়িয়ে যাওয়ার মত অবস্থা, বলা চলে গ্রাম্যেভাষায় একেবারে খাড়া দুপুর।
গ্রামের পথ বলে কথা কিছুটা ভালো আবার কিছুটা ভাঙ্গাচুরা। তেমন গাড়ি ঘোড়া চলেনা। শহর থেকে তো বড় কোন মাইক্রোবাস বা সিএনজি অটোরিকশাও আসতে চায় না। এমনিতেই চৈত্র দুপুরের খাড়া খরানে রোদ, তারমধ্যে রাস্তা ভালো না। হেঁটে হেঁটে পথ চলছে চৌধুরী সাহেবের নাতি তাপস।
তার দাদুর বাড়ি “সোনাপুর গ্রামে ” তাপস বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে ফিরল গ্রামে। তবে আবার যাবে শহরে কারন শহরে তার বাবা মা সবাই আছে কিন্তু গ্রামে শুধু তার দাদু ও দাদিমা থাকে কারন উনারা বয়স্ক মানুষ গ্রামের মায়া ছাড়তে পারেনা তাই গ্রামে নিয়মিত বসবাস করছেন। দাদু অত্যন্ত সহজ সরল গ্রামের মানুষ, গরীব দুঃখী অবহেলিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাড়িয়ে- ওদের সাথে বসবাস করেই চলছে আমার দাদু।
ঐযে দেখা যাচ্ছে কালো কালো বাঁশের আগা-পাতা আর লম্বা তাল গাছ ওটাই আমার দাদুর বাড়ি,। রোদের তাপ আস্তে আস্তে কমছে আর আমার রাস্তাটাও কমে যাচ্ছে প্রায়। আগেই দাদুকে ফোন করে বলেছি,আমার বাড়ি আসার কথা। দাদু আমার আসার কথা শুনে,
বেশ কিছু লেবুর ঠান্ডা শরবত বানিয়ে রাখছেন।
আমি শরবত পান করে একটু বিশ্রাম নিলাম।
গ্রামে পৌঁছে মনটা খুব ফুরফুরে লাগছে আর আনন্দে হৈচৈ করে পুকুরে সাঁতার কাটলাম। খাওয়া সেরে উঠতেই দেখি, শুধু শুধু ফটকার আওয়াজ, পটকা মানেই গ্রামে বিয়ের ধুমধাম আয়োজন। দাদুকে বললাম কোথায় বিয়ে?  দাদু বলে সামনে পাড়ায় জমির উদ্দীনের মেয়ের বিয়ে।
কিছুদিন আগে অবশ্য জমির চাচা মারা গিয়াছে। তিনি গ্রাম্য সম্পর্কে চাচা হন। একটু মধ্যেবৃত্ত গরীব মানুষ ছিলেন জমির চাচা। দাদু ওদের বেশ সহায়তা করেন পরিবার চালাতে। দাদু বললো তাপস যা বিয়ের বাড়ি থেকে ঘুরে আয়, দেখতো পাত্র এসেছে? আচ্ছা দাদু আমি যাচ্ছি —
সবার চিন্তা দূরের পথ রাত বেশি না করে, বিয়ের কাজ দ্রুত সেরে পাঠিয়ে দিতে হবে। সবাই পাত্রের অপেক্ষায় ধৈর্য্য ধরে সময় পার করছে আর ওদিকে মাইকে বিয়ের আনন্দে পাড়ার মহিলারা গীত গাইছে। এমনি করে রাত গভীর হয়ে গেল তবুও পাত্রপক্ষ আসলো না ওদিকে মেয়ের মা চিন্তায় নাওয়া খাওয়া ছেড়েছে,
এভাবে সকাল হয়ে গেল পাত্র আর আসলো না। ঘটকের মাধ্যমে জানা গেল পাত্র অন্য মেয়েকে নিয়ে হারিয়ে গেছে। সে কথা শুনে বিয়ের পাত্রী তারিন যমুনায় ঝাপ দিতে দৌড়ায়। সবাই কৌশলে তারিনকে আটকায়। তাপস তারিনকে দেখে অবাক, গ্রামের মেয়ে এত সুন্দর হয় কি করে? তাপস তারিনকে দেখে খুব পছন্দ হয়েছে ও ভালোলেগেছে।
তখন তাপস দৌড়ে দাদুকে ডেকে নিয়ে আসে, তাপস দাদুকে বলে দাদু তারিন তো খুব সুন্দরী একটা মেয়ে, তাহলে কেন বিয়ে ভেঙ্গে যায়?  চৌধুরী সাহেব এসে দেখে খুব করুন অবস্থা।
সবাই কে ডেকে বলে সবাই এখানে এসো,
সবার সাথে আমার পরামর্শ আছে তাহলো তারিন স্নাতক ডিগ্রী পাশ একটা শিক্ষিত সুন্দরী মেয়ে। তারিনের বিয়ে হবে আমার একমাত্র নাতি, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র, আমার উত্তরাধিকারী তাপসের সাথে।
চৌধুরী সাহেবের কথা শুনে তারিনের মা আনন্দে কান্না করেছে আর তারিন মনের খুশিতে আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসে। মহা-ধুমধামে বিয়ের কার্য সম্পন্ন হয়। এবং তারিন তাপস আনন্দে শহরে চলে যায়। “🌿