দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর


jaisomoy প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৮, ২০২২, ৭:৩৬ অপরাহ্ন /
দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর

করোনা মহামারিকালে বিশ্বের অনেক দেশেই অনলাইন মাধ্যমে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরীক্ষা এবং অনুশীলন কার্যক্রম নিয়ে ছিল বিপত্তি। বাংলাদেশেও মহামারিকালে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করলেও পরীক্ষা কার্যক্রম ছিল বন্ধ। সেই সঙ্গে ক্লাসগুলো অনলাইনে নিলেও প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা উপকরণের ডিজিটালাইজেশন না হওয়ায় ছিল চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবার দেশের সুবিধাবঞ্চিত প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের ৬৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের কাজ চলছে।

বিটিআরসির এসওএফ (সামাজিক দায়বদ্ধতা) তহবিলের অর্থায়নে টেলিযোগাযোগ অধিফতর এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের আওতায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় এই দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ডিজিটাল কনটেন্ট পাওয়ার পর ছুটির পরও বাড়ি যেতে চায় না খুদে শিক্ষার্থীরা।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানান, ডিজিটাল কনটেন্টে শিক্ষা পেতে বেশ আগ্রহী শিক্ষার্থীরা। আর এ কারণেই আশপাশের অনেক স্কুল থেকে শিক্ষার্থীরা চলে আসছেন এই মডেল স্কুলগুলোতে। এই অবস্থায় যে স্কুলে মাল্টিমিডিয়া আছে সেখানে ডিজিটাল কনটেন্ট দেওয়ার দাবি করেছেন মানিকগঞ্জের ডিজিটাল ডিভাইস ও ডিজিটাল কনটেন্টে পরিচালিত দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গুজুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বারাহী পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল কনটেন্টে পাঠদান কর্মসূচি পরিদর্শন করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, শিশুরা খেলার ছলে আনন্দের সঙ্গে তাদের এক বছরের সিলেবাস ২ মাসের মধ্যে শেষ করতে সক্ষম হয়। শিশুদেরকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতেই হবে। ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল কনটেন্টে পাঠদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের শেষ হওয়ার পথে। ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে প্রাথমিক পাইলটিং স্তরের শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রাথমিক স্তর থেকে শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের কার্যক্রম শেষ স্তরে রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সাল থেকে গত ১৩ বছরে হাঁটি হাঁটি পা পা করে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রম ডিজিটালে রূপান্তরে সক্ষম হয়েছি। বিশ্বে বাংলা ভাষায় এ ধরনের ডিজিটাল উপাত্ত তৈরি করা এটাই প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র।

বিজয় ডিজিটালের সিইও জেসমিন জুঁই বলেন, শিশুদের জন্য মানসম্মত একটি ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। গত ১৩ বছরে বিজয় ডিজিটাল কনটেন্ট সে চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে মন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার বিবরণ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল ওহাব, বিজয় ডিজিটালের সিইও জেসমিন জুঁই, মানিকগঞ্জের এডিসি জেনারেল মো. সানোয়ার হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতিশ্বর পাল, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোহসীন রেজাসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টেলিযোগাযোগ অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের বাইরে তার অধীন যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ডিভাইস আছে সেগুলোতে বিজয় ডিজিটাল উপাত্ত পাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। মন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

চলতি বছরের ২০ জুলাই সুবিধাবঞ্চিত প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের ৬৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় থেকেই দাবি করা হয়, শুধু এই ৬৫০ বিদ্যালয়ে নয়, বরং সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল রূপান্তর প্রকল্পের আওতায় আনা উচিত।